নিয়মিত কলাম
প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখাইল্যার নালিশ || নিয়মিত ১৭৪

আপা, আংগো সেলাম-শুভেচ্ছা নিয়েন। আন্নের ব্যস্ততম সময় কাইটতেছে- হাঁচ বছর সময়ের মইধ্যে অলরেডি তিন বছর হার অই গেছে। বাকি দুই বছরে আন্নের সরকারের বিশ্রামের সময় না থাঅনের কতা। এর আগেও কইছিলাম, এ সময়ের প্রতিটা মুহুর্তকে কাজে লাগাইতে অইলে দলের অভিজ্ঞ, প্রবীণ নেতৃবৃন্দকে কাজে লাগানো দরকার। ইয়ারমধ্যে আননে মন্ত্রীসভায় হরিবর্তন কইরছেন- ওবায়দুল কাদের, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মন্ত্রী বানাইছেন। অহন তোফায়েল আহমেদরে দায়িত্ব দেন, আব্দুর রাজ্জাক বাঁচি থাইকলে হেতেনেরেও দিতে হাইরতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় কারু কারু ভূমিকা হরিচ্ছন্ন না থাইলেঅ’ হেতানগোরে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখি দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে হেতানগো ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে অইবো। মানুষ ভুল কইরতো হারে- তয় ভুলের সংশোধনের সুযোগ দেঅন দরকার।

ভূতপূর্ব প্রধান বিচারপতি সংবিধান সংশোধন করি তত্ত্বাবধায়ক হদ্ধতি বাতিল করি দিছেন- আবার একখান লেজ রাখি দিছেন- প্রয়োজনে আরও দুই টার্ম এ ব্যবস্থার অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত অইতো হারে। তত্ত্বাবধায়ক হদ্ধতি যদি অসাংবিধানিক অয়, তা অইলে দুই টার্ম চালু রাখার কি দরকার? এরহলে বিরোধের একটা সূত্রপাত অইছে; বিরোধী দল সাংগঠনিক কার্যক্রম হালাই রাখি আন্দোলনে ঝাঁপাই হইড়ছে। এছাড়া সংবিধানে একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্যদিকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’, ‘বিসমিল্লাহ’ ইত্যাদি বহাল রাখা অইছে। এটা হরস্পরবিরোধী- রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তক এরশাদ সাবও সম্ভবতঃ তা অস্বীকার কইরবেন না। হেতেন রাষ্ট্রধর্ম চালু কইরছিলেন ইসলামের প্রতি দরদী বলি নয়, সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক লক্ষ্যতুন দুনিয়ার অবাইরা এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। হেতেনের আচার-আচরণ, ব্যক্তিগত ব্যাপার-স্যাপার তা প্রমাণ করে। তবু আন্নের সরকার সংবিধানে হেটাই রাখি দিছে। এতেও ধর্মীয় রাজনীতির অনুসারী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী খুশি অয় ন’ -হেতেরা তা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অতুলনীয় ভূমিকা এবং অসাধারণ সহযোগিতার কতা বাংলাদেশীরা কহনও ভুইলবে না, অকৃতজ্ঞ অইবো না। কাজেই কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর হাতে ইন্দিরা গান্ধীরে মরণোত্তর সম্মাননা দেঅনের ব্যবস্থা দেরিতে অইলেঅ’ ইতিবাচক।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হরিচালনা আন্নেগো নির্বাচনী অঙ্গীকার। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীন সত্তা লই কাজ কইরতেছে। কাজেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদক যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগোর ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তাহলে সরকারের কি কইরতে অইবো! বেগম জিয়া প্রবীণ ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সহায়তা লই হেই মামলা মোকাবেলা কইরবেন, আইনের মাইধ্যমে নিজকে প্রমাণিত কইরবেন যে, হেতেন দুর্নীতিমূলক কাজ করেন ন’। ইয়ারলাই আন্দোলন-সংগ্রাম করি বিএনপি নিজেগো শক্তি ক্ষয় কইরতেছে।

সাংগঠনিক ক্ষেত্রে আন্নের দল আওয়ামী লীগে চাঞ্চল্য নেই বলি মনে অয়। ঈদুল ফিতরের হর সাংগঠনিক সফর শুরু করি ঈদুল আজহার আগে শেষ কইরতে অইবো। তয় মন্ত্রী-এমপিদের লগে তৃণমূল নেতা-কর্মীগো যে দূরত্ব সৃষ্টি অইছে তার নিরসন না অইলে আগামী সংসদ নির্বাচনে সমইস্যা অইতো হারে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাগো মনে যে গভীর ক্ষোভ আছিলো তা কিছুটা প্রশমন অইছে বলি মনে অয়। নতুন নেতা-নেত্রীদের লই আন্নের হরীক্ষা-নিরীক্ষা কম অয় ন’- আর দরকার নাই; অহন অন্যান্য প্রবীণগো কাজে লাগান আর কালক্ষেপণ না করি। সংগঠনরে শক্ত ভিতের ওপরে দাঁড় করাইতে হাইরলে নির্বাচনে বিজয়ী হঅন ছাড়াও ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের যে বিশাল কর্মযজ্ঞে হাত দিছেন তার সফল বাস্তবায়নে বিশাল প্রশিক্ষিত-দীক্ষিত কর্মীবাহিনীর প্রয়োজন অইবো- আমলা নির্ভর অইলে তা সফল অইতো ন’।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ি হইড়ছে। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী বড় বড় সেতু নির্মাণ লই খুব ব্যস্ত আছিলেন -অবশ্য এটার প্রয়োজন আছিলো। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কগুলান যে যান চলাচলের অযোগ্য অই হইড়ছিল হেইডা সম্ভবতঃ নজরে আসে ন’। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যে মহাযানজট দেখা যাইতেছে তা মহাজোট সরকারের লাই সুখবর ন’। এগুলানের মইধ্যে আমাগো লক্ষ্মীপুর- আলেকজান্ডার-সোনাপুর মহাসড়কঅ আছিল। এসব মহাসড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না অইলে দুর্ঘটনায় যাত্রীগো প্রাণহানি, যানবাহনের অপূরণীয় ক্ষতি কইমবো না। কেবল সংস্কার কইরলেই চইলবো না, প্রয়োজনে পুনঃনির্মাণও কইরতে অইবো। নতুন যোগাযোগ মন্ত্রী বৃহত্তর নোয়াখালীর সুসন্তান ওবায়দুল কাদের, হেতেন এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিবেন বলি আশা করা যায়।

এবার বৃহত্তর নোয়াখালীর কিছু সমইস্যা ও সম্ভাবনার কতা বলি। লক্ষ্মীপুর-রামগতি এলাকায় মেঘনায় জলদস্যুদের উৎপাতে জেলেরা বৈধ সময়েও মাছ ধইরতে হাইরতেছে না। বরাবরই দেখা যায় একই চিত্র- মাছসমেত ট্রলার ছিনতাই, হাত-পা বান্ধি জেলেদেরকে হানিতে নিক্ষেপ, মুক্তিহণ ও নগদ অর্থ আদায় এমনকি হত্যা হর্যন্ত অইতেছে। এসব অন্যায়, অবিচার দূর কইরতে অইলে কোস্টগার্ডের জনবল বাড়াইতে অইবো, সাঁড়াশী অভিযান হরিচালনা এবং হেই অভিযানে হেলিকপ্টার রাখাও প্রয়োজন।

ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াইতে অইলে জাটকা অবস্থায় একে নিধনের হাততুন বাঁচাইতে অইবো- পুরো মেঘনা নদীতে জাটকা শিকারের নিষেধাজ্ঞা হুরাহুরই বাস্তবায়ন করা অহনও সম্ভব অইতেছে না। বাগদা চিংড়ি হোনা আহরণ কইরতে যাই অন্যান্য প্রজাতির মাছের হোনা ধ্বংস করি হালাইতেছে স্থানীয় লোকজন- এর হরিণতি হরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট, মেঘনা নদীরে মাছশূন্য করার ব্যবস্থা! অহনই সঠিক হদক্ষেপ নিতে অইবো কারেন্ট জাল, মশারী জাল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইয়ানের ব্যবহারকারীগো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রাইখতে অইবো। প্রায়ই কারেন্ট জাল আটক ও হোড়ানোর খবর হত্র-হত্রিকায় প্রকাশিত অয়, কিন্তু এর যেন শেষ নাই। এজন্য কারেন্ট জাল উৎপাদনের উৎসমূলে হানা দিতে অইবো। মৎস্য-সম্পদ রক্ষা আমাগো জাতীয় দায়িত্ব।

আন্নের হয়ত নজরে আইছে- লক্ষ্মীপুর জেলা সয়াবিন আর সুপারি উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি কইরছে। ৩শ’ কোটি টাকার সুপারি আর ৭শ’ কোটি টাকার সয়াবিন উৎপাদিত অইতেছে এ অঞ্চলে। সয়াবিন-ভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ার লাই উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত, পৃষ্ঠপোষকতা করা জরুরি। এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয় ও হরিকল্পনা মন্ত্রণালয়রে বিশেষভাবে চিন্তা-ভাবনা করার নির্দেশ দিয়েন। দেশের উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ ভাগই উৎপাদিত অয় লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে, মিষ্টি সুপারির ব্যাপক উৎপাদন অয় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর অঞ্চলে। এছাড়া রায়পুর অঞ্চলে মৎস্য-ভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ি ওঠার সম্ভাবনা আছে। এ সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাইতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃহক্ষরে নির্দেশ দিয়েন। লক্ষ্মীপুরের বিধ্বস্ত রাস্তাঘাটের দিকে সুনজর রাখিয়েন। ওবায়দুল কাদেরকে মিনিস্টার বানানোর লাই বৃহত্তর নোয়াখালীর লোক খুব খুশি অইছে। এখন দু’আড়াই বছরের মধ্যে অবহেলিত নোয়াখালীর দিকে একটু নজর দেন। আজ এ হর্যন্ত- সতেজ থাকুন, সুস্থ থাকুন, আন্নের নেতৃত্ব আরও গতিশীল হোক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক -এই কামনা করি। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু।

-এম মোস্তফা

 

 
 
 
lbheading